Published in: Prothom Alo
Date: 19 Aug 2020
আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতা—এই তিন সূচকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতির দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিট এখন আছে রোগীশূন্য অবস্থায়। আজ বুধবার সকালে একজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর ইউনিটটি প্রথমবারের মতো রোগীশূন্য হয়।
করোনার পরিস্থিতির উন্নতির এ চিত্র দেখে স্থানীয় ব্যক্তিরা বেশ উচ্ছ্বসিত। উচ্ছ্বাস থেকে তাঁদের মধ্যে একদিকে দূর হয়েছে করোনাভীতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। এতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শুরু থেকে করোনার জন্য কিশোরগঞ্জকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ জেলা ঘোষণা করা হয়। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে শুরু থেকে জেলার ভৈরব উপজেলা শীর্ষে ছিল। তবে জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে এই উপজেলায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হতে থেকে। আজ বুধবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮৭। ৩ হাজার ২০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্তের এই সংখ্যা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৪০ জন। সুস্থতার হার ৯২ শতাংশ। এর মধ্যে আবার প্রায় ৭৫ শতাংশ সুস্থ হয়েছেন নিজেদের বাড়িতে থেকেই। এর মধ্যে ১৪ জন মারা গেছেন। সর্বশেষ মৃত্যু তথ্যও এক মাস আগের।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র আরও জানায়, আগস্টেও ভৈরবে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। বিশেষ করে ঈদ–পরবর্তী পরিস্থিতিও আছে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই। তবে আগের মাসের মতোই চলতি মাসেও নমুনা দেওয়ার সংখ্যা কমেছে। চলতি মাসের মঙ্গলবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। ২০২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্তের এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ আক্রান্তের হার দিনে ১ দশমিক ৩৫। আর নমুনা দিনে গড়ে ১২ জন দিয়েছেন। অথচ জুনে প্রতিদিন ৭০ জন নমুনা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসে কোভিড-১৯–এ আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দুইয়ের নিচে নেমে আসায় এবং মৃত্যু সংবাদও না থাকায় ভৈরবের সর্বত্র স্বাভাবিক চিত্র ফিরে এসেছে। মানুষের মধ্যে করোনাভীতি আছে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিও উধাও হয়ে গেছে। খুব কমসংখ্যক মানুষকে মাস্ক পরে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
আজ বুধবার ভৈরবে হাট বসেছে। হাটে গিয়ে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এ সময় হাজী আসমত কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। মাস্ক না পরাদের মধ্যে তিনিও একজন। মাস্ক না পরার কারণ হিসেবে তাঁর যুক্তি, ‘ভৈরবে এখন আর করোনা নেই। এ ছাড়া মাস্ক পরলে কেমন কেমন লাগে। স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ। তিনি করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন জানতে চাইলে তাঁর কথায় স্বস্তি প্রকাশ পায়। তবে মানুষের মধ্য থেকে করোনাভীতি চলে যাওয়া এবং স্বাস্থ্যসচেতনতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় অস্বস্তিতে থাকার কথাও বলেন তিনি। তবে সবশেষে তাঁর মন্তব্যে করোনা নিয়ে তাঁর আশঙ্কার কথাই ফুটে উঠেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এত কমসংখ্যক নমুনা দিয়ে করোনার প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন।
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1675337/%E0%A6%AD%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A7%AF%E0%A7%A8