Published in: Prothom Alo
Date: 19 Dec 2020
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট—এনআইএইচ জানিয়েছে, করোনার প্রাথমিক সংক্রমণের শেষে নতুন ও ভিন্ন ধরনের কিছু লক্ষণ বেশ কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস স্থায়ী থাকতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব নতুন লক্ষণ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এদিকে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সম্প্রতি করোনা রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী ও নতুন লক্ষণগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বুকে ব্যথা, মস্তিষ্কের কুয়াশাভাব, অবসন্নতা ও চুল পড়া। সিডিসি জানায়, কিছু রোগী আরও নানা ধরনের নতুন লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছে। যেহেতু সব করোনা রোগীর একই লক্ষণ নেই, তাই কোভিড আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার পর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন বলে এনআইএইচ জানায়।
এনআইএইচ জানায়, করোনার ভিন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের কাছে উত্তরের চেয়ে প্রশ্ন অনেক বেশি। উপরন্তু, এই নতুন লক্ষণগুলো প্রকৃতপক্ষে কয়েক মাস দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং কীভাবে তাদের চিকিৎসা করা যায়, তার সঠিক উত্তর তাদের কাছে নাই।
এদিকে, করোনা মহামারির বয়স প্রায় এক বছর হলেও করোনা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষণের প্রকৃত প্রকোপ নির্ধারণে এখনো বৃহত্তর আঙিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। তবে প্রাথমিক গবেষণায় বোঝা যায়, করোনা রোগীদের ১০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বা দীর্ঘস্থায়ী কমপক্ষে একটি উপসর্গ দেখা দেবে, যা করোনা–পরবর্তী এই রোগীদের জীবন পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনা আক্রান্তের পর আইসিইউতে ভর্তি হয়নি এমন ৫০ ভাগ রোগী তাদের কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে।
৩ ডিসেম্বরে এনআইএইচ আয়োজিত এক সেমিনারে জাতীয় অ্যালার্জি ও সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অ্যান্টনি ফাউসি বলেন, এটি একটি বাস্তব ঘটনা যা সত্যিই বেশ বিস্তৃত।
দা প্যাসেন্ট লেড গবেষকদের একটি দল, যারা করোনার রোগীও বটে, তারা ৬৪০ জন দীর্ঘ-কোভিড লক্ষণযুক্ত রোগীর ওপর একটি সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় টেস্টিকুলার ব্যথা, মূত্রথলির সমস্যা এবং মাসিকের পরিবর্তনসহ ২০০টিরও বেশি লক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং রেকর্ড করা হয়।
মেনোপজ বিশেষজ্ঞ ড. লুই নিউজন এনআইএইচের সেমিনারে বলেন, মস্তিষ্কের কুয়াশাভাব, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, হাঁড়ের সংযোগে ব্যথার পাশাপাশি করোনার দীর্ঘ প্রভাব নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে পারে। ইস্ট্রোজেন নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে এবং অস্বাভাবিকভাবে কম মাত্রা বন্ধ্যত্ব, অস্টিওপোরোসিস, হতাশা ইত্যাদির কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, করোনার দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণগুলো পুরুষের প্রজনন সিস্টেম ও টেস্টোস্টেরন স্তরেও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
Source:
https://northamerica.prothomalo.com/life-style/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%80-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87