Published in: Prothom Alo
Date: 28 Sep 2020
হার্ট বা হৃৎপিণ্ড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ অকেজো হয়ে গেলে শুধু ওই অঙ্গের কার্যে ব্যাঘাত ঘটে বা ক্ষমতা লোপ পায়। কিন্তু হৃদযন্ত্র একবার বিকল হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। অথচ একটু সচেতন থাকলেই হৃৎপিণ্ড সুস্থ ও সবল রাখা কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। সবার মধ্যে এই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব হার্ট দিবস। এ উপলক্ষে ‘হৃদয়ের সুরক্ষা হোক হৃদয় থেকে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত হলো বিশেষ অনুষ্ঠান এসকেএফ নিবেদিত ‘হৃদয়ের সুরক্ষা’র দ্বিতীয় পর্ব।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও চিফ এবং মেডিসিন অনুষদের ডিন এবং বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডা. সজল ব্যানার্জি। আরও ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি কার্ডিয়াক সেন্টারের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশনের প্রেসিডেন্ট ডা. ফজলুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. নাদিয়া ইসলাম। অনুষ্ঠানটি ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি হার্টকে সবল রাখতে অবশ্যই শরীরচর্চা করতে হবে। দু রকমের শরীরচর্চা হার্টের জন্য ভালো। মডারেট বা মাঝারি এবং হাই ইনটেনসিটি বা উচ্চমাত্রার শরীরচর্চা। এ দুধরনের শরীরচর্চার যেকোনো একটি করলেই চলবে। তবে হার্ট সবল রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো হাঁটা। সবারই প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট করে হাঁটা উচিত। এ ছাড়া সাইক্লিংও করা যেতে পারে।
যাদের কোলেস্টেরল বেশি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়বেটিস আছে তাদের হার্টের অসুখের ঝুঁকি বেশি। হার্ট সুস্থ রাখতে অবশ্যই এসব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মমাফিক শরীরচর্চার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।
ধূমপান হৃদযন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু। হার্টের সুরক্ষায় ধূমপান থেকে নিজেকে বিরত রাখতেই হবে। এটি করোনারি ভেসেল ও ফুসফুসের ক্ষতি করে, উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় ও শরীরের ‘এক্সারসাইজ ক্যাপাসিটি’ কমিয়ে দেয়। কোনো ধূমপায়ী যদি টানা এক বছর ধূমপান না করে, তাহলে হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমতে শুরু করবে। আর ১৫ বছরের ভেতর সেই ঝুঁকি সাধারণ একজন মানুষের সমপর্যায়ের চলে আসবে। তাই ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ট্যাক্স বাড়িয়ে দিতে হবে এবং মিডিয়ায় ধূমপানের ক্ষতিকারক দিকগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে বলেই বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।
Source:
https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0